বিভাগীয় গণসমাবেশের লাভ ক্ষতির হিসাব মেলাচ্ছে বিএনপি

নভেম্বর ০৬ ২০২২, ১৮:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ‍॥ বরিশালে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশের লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে উজ্জীবিত হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। এই ধারা অব্যাহত রেখে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করে সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন সিনিয়র বিএনপি নেতারা। এ ধরনের সমাবেশের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখে লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

৫ নভেম্বর নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে টানটান উত্তেজনা ছিলো বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গণে। গণসমাবেশ সফল করতে একমাসেরও বেশী সময় ধরে তৃণমূল চষে বেড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। বিএনপি’র এই সমাবেশের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিলো স্থানীয় ক্ষমতাসীনদেরও।
বঙ্গবন্ধু উদ্যানের ওই গণসমাবেশে লোক সমাগম নিয়ে নানা মত রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। বিএনপি’র দাবি সব শ্রেণি পেশার লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে গণসমাবেশে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার মতে, সর্বাধিক ৩০ হাজার লোক হতে পারে সমাবেশ মাঠে। সমাবেশস্থলের পাশে দায়িত্বপালনকারী পুলিশের এক কর্মকর্তার মতে ১ লাখ লোকের সমাগম হতে পারে বিএনপি’র সমাবেশে।

লোকসমাগম কম কিংবা বেশি চিহ্নিত নয় বিএনপি’র তৃণমূল। বরং এই গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মহানগর বিএনপি’র নারী সদস্য আফরোজা খানম নাসরিন। তিনি বলেন, বাঁধা-হামলা উপেক্ষা করে আহতাবস্থায়ও অনেকে সমাবেশে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর এতবড় সমাবেশে আসতে পেরে কর্মীরা আনন্দিত এবং উজ্জীবিত। এটাই এই গণসমাবেশের অর্জন।

যুবদল কর্মী অহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, বিভাগীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করে কর্মীরা আগের চেয়ে চাঙ্গা। তাদের মনোবল এখন তুঙ্গে। কেন্দ্রের যে কোনো কর্মসূচি তৃনমূল কর্মীরা জীবন বাজি রেখে বাস্তবায়ন করবে। আগামী দিনে তারা সরকার পতনের একদফা কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে আছেন বলে জানান।

বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রাপ্তি জানতে চাইলে মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব মীর হাহিদুল কবির বলেন, বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে কর্মী-সমর্থকরা গণসমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে। আগামীতে তারা যে কোন ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত সমাবেশের উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে। কেন্দ্রিয় নেতাদের বক্তব্যে তৃণমূল বিএনপি আগের চেয়ে চাঙ্গা। এই অবস্থা ধরে রেখে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে দক্ষিণের লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করে সরকার পতন তড়ান্বিত করবে বলে তারা আশা করছেন।

বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, কর্মীদের কারণেই বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল হয়েছে। হামলা-মামলার পরও তারা যে দলের প্রতি কমিটেড সেটা তারা প্রমাণ করেছে। সমাবেশ থেকে তৃণমূলকে উজ্জীবিত করা হয়েছে। দলের যে কোন কর্মসূচি সফল করার মধ্য দিয়ে কর্মীরা সরকারের পতন ঘটাবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

বিভাগীয় গণসমাবেশের লাভ ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবব্ধ করার অংশ হিসেবে বরিশালে গণসমাবেশ হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ জেগে উঠবে। গণআন্দোলন হবে। গণঅভ্যুত্থান হবে। স্বৈরাচারের বিদায় হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন হবে। জনগণ অধিকার ফিরে পাবে- এটাই হচ্ছে গণসমাবেশের সফলতা।

বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, এটা হলো বিএনপি’র মনের প্রশান্তি। কিছু মানুষ আসলো, শ্লোগান দিলো- এতেই তারা ভাবছে তারা ক্ষমতায় চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টেনে হিঁচড়ে নামানোর ক্ষমতা কারো নেই। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দেবে তারা সরকার গঠন করবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনভাবে সরকার গঠনের সুযোগ নেই এবং হবেও না বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

এক্সক্লুসিভ আরও