ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে বরিশাল নগরী

নভেম্বর ০২ ২০২২, ২০:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ৫ নভেম্বর দীর্ঘদিন পর বিভাগীয় গণ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে বরিশাল নগরী।

নগরবাসী বলছে, নগরীতে এত বেশি পোস্টার-ব্যানার গত এক দশকে দেখা যায়নি। ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন টাঙাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির নেতা -কর্মীরা। বরিশাল নগর শাখার সাবেক ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘নতুন উদ্যমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং সমাবেশস্থলে ব্যানার টাঙিয়েছি’।

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমাদের বরিশাল বিভাগের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চান, এটা তো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অংশ হয়ে উঠেছে।” “আসলে এই সমাবেশ দলের নেতা-কর্মীদের জন্য একটি উদযাপনের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।”

বরিশালের এক পথচারী বলেন, আমরা শহরের রাজপথে বিএনপির ব্যানার-পোস্টার দেখছি এবং দেখে আমাদের কাছে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে মনে হয়েছে।

“আমরা আশা করি আগামী দিনগুলো দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য শান্তিপূর্ণ হবে।” এদিকে বিভাগীয় শহর বরিশাল নগরীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের দিন যতোই এগিয়ে আসছে ততোই নগরীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌর এলাকা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল উত্যপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, আগামী ৫ নভেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশে যেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আসতে না পারেন সেজন্য ইতোমধ্যে ৪ ও ৫ নভেম্বর সড়কপথে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়েছে। নৌরুটেও ধর্মঘট ডাকার আভাস পাওয়া গেছে।

এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিতে সোমবার রাতে জেলার কয়েকটি স্থানে বিএনপি নেতাদের বাসা-বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে।

একাধিকস্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বর জখম করা হয়েছে। এরইমাঝে গত সোমবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকায় হঠাৎ করে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন লিটন মোল্লার নেতৃত্বে মোটরসাইকেল মিছিল বের করা হয়।

ওই মিছিল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মীর সাদসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

এরআগে ওইদিন (সোমবার) জেলার উজিরপুরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলায় বিএনপির ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অনুরূপ রবিবার সন্ধ্যায় গৌরনদীর মাহিলাড়া বাজারে এক স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় যুবলীগের মহাসমাবেশ এবং ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে এই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এখন থেকে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মিছিল ও সমাবেশ করার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ৫ নভেম্বর বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চাপে রাখতে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো হয়েছে। যেকারণে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা বরিশাল।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে মিছিল ও সমাবেশ করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের চাঙা করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।

আমরাও যে মাঠে আছি, তা মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে জানান দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি তাদের সমাবেশ করবে, আমরা তাতে বাঁধা দেবোনা। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে আমার তাদের প্রতিরোধ করবো।

যানবাহন ধর্মঘটকে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের গভীর ষড়যন্ত্র আখ্যায়িত করে মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, হঠাৎ করে মিছিল, সমাবেশ ও হামলার ঘটনা বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ বাঁধাগ্রস্ত করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি চক্রান্ত।

আওয়ামী লীগ কোনোভাবে আমাদের আটকাতে না পেরে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি পুলিশ দিয়ে বাসা-বাড়িতে তল্লাশীর নামে হয়রানী শুরু করেছে।

এসব করে কোনো লাভ হবেনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ৫ নভেম্বরের গণসমাবেশ হবে স্মরণকালের সবচেয়ে বড়।

মঙ্গলবার সকালে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল বলেন, ৫ নভেম্বরের গণসমাবেশকে ঘিরে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে সোমবার রাতে বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার গৌরনদী বন্দরের তালাবদ্ধ ঘরে পুলিশ হানা দিয়ে বাড়ির অন্যান্য ঘরের ভাড়াটিয়াদের কাছে আমার খোঁজ করেন। একইদিন রাতে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছিলো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পাঁচ লাখ লোকের সমাগম করতে চায় বিএনপি ॥ পদ-পদবির দ্বন্ধ ভুলে ৫ নভেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে তরুণ বিএনপি নেতাদের সাথে মাঠে নেমেছেন সিনিয়র নেতারা।

যে যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। শত বাঁধা বিপত্তির পরেও বিএনপির নেতৃবৃন্দরা আশা করছেন সমাবেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ৫ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।

পরিবহন ধর্মঘটকে কর্মীরা কোনো বাঁধাই মনে করছেন না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো বাঁধাই বিএনপির নেতাকর্মীদের রুখতে পারবে না।

আ/ মাহাদী

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

এক্সক্লুসিভ আরও