শিল্পে যাবে ভোলার গ্যাস

নভেম্বর ০১ ২০২২, ১১:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসকে সিএনজিতে (কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) রূপান্তর করে দেশের শিল্পকারখানায় সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ জন্য পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।

সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫০০ সিএনজি স্টেশনের মাধ্যমে মূলত যানবাহনে সিএনজি গ্যাস বিক্রি হয়।

তবে কয়েক বছর ধরে গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার মালিকরা সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে নিয়ে তাদের ক্যাভটিভ পাওয়ার বা শিল্পকারখানায় ব্যবহার করছেন।

দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে ২৬০০ মিলিয়ন। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

গ্যাসের অভাব দূর করতে আর্থিক সংকটে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানিও করতে পারছে না সরকার।

ফলে শিল্পের গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে সিএনজি আকারে ভোলার গ্যাস এনে সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সম্প্রতি এক মতবিনিময়সভায় বলেন, ‘ভোলায় কিছু গ্যাস আছে, সেগুলো আমরা সিএনজি আকারে নিয়ে আসব। সেখানে ৮০ এমএমসি গ্যাস আছে। আমরা দুই-তিন মাসে সেটি নিয়ে আসার চেষ্টা করব।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু উদ্যোগের বাস্তবায়ন খুব সহজ হবে না। ভোলার গ্যাস সিএনজি বানিয়ে রাজধানী বা আশপাশের শিল্পকারখানায় সরবরাহ করলে কত খরচ পড়বে, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ভোলায় গ্যাস মজুদ রয়েছে। শিগগিরই আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সেই গ্যাস শিল্পে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে

অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার করা যায়, শিল্পে ব্যবহার করা যায়, সেটি নিয়েই ভাবা হচ্ছে। সিএনজি করে এনে শিল্পে ব্যবহার করা যায় কিনা, তা দেখা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, ভোলার ‘শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রের’ সক্ষমতা ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ভোলা নর্থে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে প্রায় এক টিসিএফ গ্যাস মজুদ রয়েছে।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোলা থেকে সিএনজি আকারে গ্যাস এনে শিল্পে সরবরাহ করা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। তারা বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এখন একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

কমিটি একেবারেই প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছে। তার মধ্যে পলিসি নির্ধারণ ও বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের সম্ভাব্য ভূমিকা রয়েছে।

মার্কেটিং পলিসি নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। যারা সিএনজি আকারে গ্যাস আনতে চায়, তারা কোন কোন শর্তে বা কী প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসবে, এসব বিষয়ও ভাবা হচ্ছে।

পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রধান পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) কামরুজ্জামান বলেন, ‘সিএনজি আকারে গ্যাস আনতে হলে অনেক কাজ করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পলিসি নির্ধারণসহ নানা বিষয় রয়েছে। আপাতত এগুলো নিয়ে কাজ চলছে।’

কমিটির বাকি চার সদস্য হলেন- পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ, তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ মোল্লা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন ডিজিএম রয়েছেন।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, ভোলা থেকে সিএনজি আকারে গ্যাস আনতে হলে কী ধরনের পরিবহন বা সিএনজি ট্রেইলার ব্যবহার করা যায়, কী প্রক্রিয়ায় আনা যাবে, কী কনটেইনার ব্যবহার করা হবে, সেটি নিরাপদ কিনা- এমনকি প্রতি কিউবিক মিটার গ্যাস ভোলা থেকে এনে শিল্পে সরবরাহ পর্যন্ত খরচ কত পড়বে- সব বিষয় বিবেচনা করতে হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভোলা থেকে গ্যাস আনতে হলে বিশাল নৌপথ ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে।

সেখান থেকে এই গ্যাস বড় কনটেইনারবাহী ট্রাকে করে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাবে। ফলে পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, সিএনজি খাতের ব্যবসায়ী ‘ইন্ট্রাকো’ ভোলা থেকে সিএনজি করে গ্যাস এনে শিল্পে সরবরাহে পেট্রোবাংলার কাছে আবেদন করেছে।

আরও দুটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে বলে পেট্রোবাংলার এক কমকর্তা জানিয়েছেন।

ঢাকা থেকে ভোলার দূরত্ব ১৯০ কিলোমিটার। সেখান থেকে শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ড আরও অন্তত ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে। দ্বীপ জেলা ভোলায় ১৯৯৫ সালে গ্যাসের মজুদ আবিষ্কার হয়।

তবে সেখানে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ছোটখাটো দু-একটি কারখানা ছাড়া গ্যাস ব্যবহারের তেমন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি।

এতে একদিকে ভোলায় প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের মূল ভূখ-ে অনেক শিল্পকারখানা গ্যাসের সংকটের মধ্যে আছে। দীর্ঘ সময়েও পেট্রোবাংলা ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার তেমন কোনো চেষ্টা করেনি।

ভোলার শাহবাজপুরে বাপেক্সের বর্তমানে পাঁচটি গ্যাসকূপ উৎপাদনে রয়েছে। কূপগুলোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২১০ এমএমসিএফডি।

আ/মাহাদী

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

এক্সক্লুসিভ আরও